আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে কী কী অস্ত্র পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র?

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও দূরপাল্লার অস্ত্র পাঠানোর জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ইউক্রেনীয় নেতারা। যাতে করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান পাল্টা আক্রমণের সাফল্য ধরে রাখা যায় এবং মস্কোর বিরুদ্ধে আক্রমণ জোরদার করা সম্ভব হয়।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বুধবার বলেছেন, ‘মিত্ররা ইউক্রেনকে যতদ্রুত সম্ভব অস্ত্র পাঠাতে অঙ্গীকারাবদ্ধ’। তিনি জানান, ট্যাংক, সাঁজোয়া যান থেকে শুরু করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কামানের মতো অনেক ধরনের অস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে ব্রাসেলসে বৈঠক করছেন ৫০টিরও বেশি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা।

তবে এগুলোর বাইরেও অনেক শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক অস্ত্র চায় ইউক্রেন। রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা, রাষ্ট্রীয় গোপন প্রযুক্তি বা সীমিত মজুতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখনও এমন ধরনের অস্ত্র ইউক্রেনকে সরবরাহ করেনি।

যেসব অস্ত্র ইউক্রেন পেতে পারে বা পাবে না–তা নিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

কী কী অস্ত্র পাচ্ছে ইউক্রেন?

চলতি সপ্তাহে ৫০জন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে অস্টিন ও মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলি ইউক্রেনে আরও আকাশ প্রতিরক্ষার অস্ত্র পাঠানো ও ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রশিক্ষণ জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

বুধবার অস্টিন বলেছেন, আমরা জানি অপর গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামসহ ইউক্রেনের এখনও দূরপাল্লার অস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কামান ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি বলেছেন, মিত্ররা বেশ কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইউক্রেনকে ২০টি অত্যাধুনিক হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেমস বা হিমার্স সরবরাহ করেছে। কিয়েভকে আরও ১৮টি হিমার্স ব্যবস্থা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে কিয়েভ।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন বলেছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে দুটি ন্যাশনাল অ্যাডভান্সড সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমস (নাসামস) ইউক্রেনকে সরবরাহ করা হবে। চলতি বছরের শুরু থেকে এই অস্ত্র সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে আসছে তারা। এই অস্ত্র ইউক্রেনকে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে মধ্য থেকে দূরপাল্লার সুরক্ষা প্রদান করবে।

জার্মানি ইউক্রেনকে আইআরআইএস-টি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দিচ্ছে। এগুলোর রেঞ্জ ৪০ কিলোমিটার। এমন চারটি ব্যবস্থা কিয়েভকে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বার্লিন।

সব মিলিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ আক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৬.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র ইউক্রেনকে সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সামরিক সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে কয়েকশ’ সাঁজোয়া যান, ১৪২টি ১৫৫এমএম হাউইটজার ও এগুলোর ৮ লাখ ৮০ হাজার রাউন্ড গুলি। সঙ্গে রয়েছে কয়েক হাজার ট্যাংক বিধ্বংসী জ্যাভেলিন ও স্টিংগার বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র এবং ৬ কোটি রাউন্ড গুলি।

গ্রাফিক্স: আল জাজিরা

কী কী অস্ত্র ইউক্রেনকে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র?

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, লড়াই জারি রাখার জন্য তার দেশের প্রয়োজন আরও অত্যাধুনিক অস্ত্র। চলতি সপ্তাহ রাশিয়া ড্রোন, ভারী কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনজুড়ে।

ক্রিমিয়া সেতুতে বিস্ফোরণের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের দৃঢ় পাল্টা আক্রমণের মুখেও হিমশিম খাচ্ছে রুশ বাহিনী। সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের পাঁচটি শহর ও গ্রাম রুশ সেনাদের কাছ থেকে মুক্ত করেছে ইউক্রেনের সেনারা।

এই হামলার পর জেলেনস্কি কয়েক ধরনের অস্ত্র সরবরাহের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত তার এই আহ্বানে পশ্চিমারা সাড়া দেয়নি।

একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ ছিল আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম বা এটিএসিএমএস। এটি পেলে ইউক্রেন ৩০০ কিলোমিটার দূরে রুশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম হবে।

এই দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবস্থায় একই লঞ্চার ব্যবহার করা হয় যেগুলো হিমার্স রকেটে ব্যবহৃত হয়। হিমার্স ব্যবস্থা ইউক্রেন তাদের পাল্টা আক্রমণে সফল ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে। তবে পার্থক্য হলো এটিএসিএমএস-এর পাল্লা তিনগুণ বেশি।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিজ-এর সেন্টার অন মিলিটারি অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ার-এর সিনিয়র ডিরেক্টর ব্র্যাড বোম্যান বলেন, এই অস্ত্রগুলো ইউক্রেনকে সরবরাহ না করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় উদ্বেগ হলো, এগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে ব্যবহার করার সুযোগ এনে দেবে। যা পুতিনকে আরও উসকে দিতে পারে।

একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে অত্যাধুনিক ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দেবে না। এই অস্ত্র দিয়ে যে কোনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা যাবে।

র‍্যান্ড কর্প-এর সিনিয়র প্রতিরক্ষা গবেষক জেডি উইলিয়ামস প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সংবেদনশীল কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করেছেন। এগুলো পরিচালনায় রণক্ষেত্রে মার্কিন সেনাদের প্রয়োজন হবে। বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনের ভেতরে মার্কিন সেনা উপস্থিতির বিষয়টি খারিজ করে দিয়েছেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যাও সীমিত।

মার্চ মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এফ-১৬ এর মতো যুদ্ধবিমান সরবরাহের জন্য চাপ দিয়ে আসছেন জেলেনস্কি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বারবার এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের মতে, এতে করে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়বে।

গ্রে ঈগল-এর মতো দূরপাল্লার অত্যাধুনিক ড্রোন সরবরাহে ইউক্রেনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এগুলো পেলে অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতে সক্ষম হবে ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে এমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রাশিয়ার হাতে চলে যেতে পারে যদি এগুলো ভূপাতিত করতে সক্ষম হয় রুশ সেনারা।

সূত্র: আল জাজিরা

Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Stream TV Pro News - Stream TV Pro World - Stream TV Pro Sports - Stream TV Pro Entertainment - Stream TV Pro Games - Stream TV Pro Real Free Instagram Followers PayPal Gift Card Generator Free Paypal Gift Cards Generator Free Discord Nitro Codes Free Fire Diamond Free Fire Diamonds Generator Clash of Clans Generator Roblox free Robux Free Robux PUBG Mobile Generator Free Robux 8 Ball Pool Brawl Stars Generator Apple Gift Card Best Android Apps, Games, Accessories, and Tips Free V Bucks Generator 2022